অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে চীনা বিনিয়োগে আতঙ্ক: হাজার কোটি টাকা পাচার!

অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বা ‘গ্রে’ মার্কেট ঘিরে তৈরি হওয়া মাফিয়া চক্রের দৌরাত্ম্য এবং সরকারের নতুন নীতিমালা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ (Chinese Investment) এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। একটি শক্তিশালী চক্রের কারণে অবৈধ পথে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রবেশ করছে এবং এর বিপরীতে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চীনা বিনিয়োগে উদ্বেগ:

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাওমি, অনারসহ বেশ কয়েকটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে মোবাইলফোন উৎপাদন ও অ্যাসেম্বলিং খাতে দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। সরকারের ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ নীতির অধীনে স্থাপিত এই কারখানাগুলো স্থানীয় বাজারে বৈধভাবে ফোন সরবরাহ করছে। তবে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বাজারের কারণে বৈধ কোম্পানিগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে এবং তাদের বিপুল বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে।

পাচার ও অবৈধ প্রবেশপথ:

সূত্রমতে, চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ মোবাইল ফোন বাংলাদেশে প্রবেশের মূল পথগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে:

প্রবেশ পথ: বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত পয়েন্টগুলো দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মোবাইল ফোন অবৈধভাবে প্রবেশ করছে।

বিপরীতে পাচার: এই সকল অবৈধ ফোনের বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ পথে হাজার হাজার কোটি টাকা ভারতে পাচার হচ্ছে।

ভারতীয় আগ্রাসনকে প্রতিষ্ঠিত করার অভিযোগ:

মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অবৈধ ফোন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করছে, তেমনই অন্যদিকে দেশের মোবাইল শিল্পে ভারতীয় আগ্রাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করছে। শুল্ক ফাঁকি দেওয়া ফোনের বাজার দখল করার ফলে দেশীয় উৎপাদনে উৎসাহী চীনা বিনিয়োগকারীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এমতাবস্থায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে বিটিআরসি-এর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা কার্যকর হলে এই অবৈধ ব্যবসা কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তার ওপরই চীনা বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

The post অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে চীনা বিনিয়োগে আতঙ্ক: হাজার কোটি টাকা পাচার! appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments