রাজধানীতে লাখ টাকা দামের স্মার্টফোন চুরি হওয়ার পর থানায় জিডি বা মামলা করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। সিআইডি বা ডিবি পুলিশের অত্যাধুনিক ট্র্যাকারেও মিলছে না ফোনের হদিস। তদন্তকারী সংস্থা ভুক্তভোগীকে জানিয়ে দিচ্ছে, ফোনটি বন্ধ আছে। কিন্তু আসল রহস্য হলো, চুরি হওয়ার পরপরই ফোনটির ‘পরিচয়’ বা আইএমইআই (IMEI) নম্বরই বদলে ফেলা হচ্ছে।
সম্প্রতি ডিবির এক অভিযানে এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যারা চীন থেকে আনা বিশেষ ডিভাইস ‘দঙ্গল’ (Dongle) ব্যবহার করে মুহূর্তেই ফোনের আইএমইআই নম্বর বদলে ফেলছে। ফলে ট্র্যাকিং প্রযুক্তিতে আর ধরা পড়ছে না চুরি হওয়া ফোন।
তিন ধাপে চলে জালিয়াতি ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ সদস্যের একটি চক্রের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই জালিয়াতি চলে তিনটি ধাপে: ১. মাঠকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন চুরি বা ছিনতাই করে। ২. টেকনিশিয়ানরা মোতালেব প্লাজা বা গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটে বসে ‘দঙ্গল’ ডিভাইস দিয়ে ফোনের লক খোলে এবং আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে। ৩. বিক্রেতারা সেই ফোনগুলো চোরাই বাজারে বা সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটগুলোতে বিক্রি করে দেয়।
বিক্রি করে পাওয়া টাকা চক্রের সবাই ভাগ করে নেয়।
মোতালেব প্লাজায় ‘দঙ্গল’ রহস্য গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডি, হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজা ও গুলিস্তানের পাতাল মার্কেট থেকে ডিবির একটি দল ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ৪৪টি চোরাই ফোন উদ্ধার করা হয়, যার প্রতিটিরই আইএমইআই নম্বর বদলে ফেলা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃত নাছির জানান, আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য তারা ‘দঙ্গল’ নামে একটি ডিভাইস ও বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। মোতালেব প্লাজার একজন ব্যবসায়ী চীন থেকে এই প্রযুক্তি আমদানি করেন। এই ডিভাইসে অসংখ্য ১৪ ডিজিটের ভুয়া আইএমইআই নম্বর আগে থেকেই লোড করা থাকে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাত্র দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ফোনের আসল আইএমইআই মুছে ভুয়া নম্বর বসিয়ে দেওয়া হয়।
কেন ট্র্যাকিং ব্যর্থ হয়? ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, আইএমইআই নম্বর ঠিক থাকলে প্রযুক্তির সাহায্যে ফোনের অবস্থান সহজেই শনাক্ত করা যায়। কিন্তু যখনই আইএমইআই বদলে ফেলা হয়, তখন নেটওয়ার্কে ফোনটি আর আগের পরিচয়ে ধরা পড়ে না। এটি তখন সম্পূর্ণ নতুন একটি ফোন হিসেবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়। ফলে ভুক্তভোগীর জিডির সূত্র ধরে পুলিশ যখন ট্র্যাক করে, তখন তারা ‘নো সিগন্যাল’ পায়।
এনইআইআর (NEIR)-এর ভূমিকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের জালিয়াতি রোধে এনইআইআর (NEIR) বা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু হলে, বিটিআরসি’র ডাটাবেজে নিবন্ধিত আইএমইআই ছাড়া অন্য কোনো আইএমইআই নেটওয়ার্কে সচল হবে না। ফলে ‘দঙ্গল’ দিয়ে বসানো ভুয়া আইএমইআই কাজ করবে না এবং চোরাই ফোনগুলো অচল হয়ে যাবে।
The post আইএমইআই বদলে ‘উধাও’ লাখ টাকার ফোন: মোতালেব প্লাজায় ‘দঙ্গল’ ডিভাইসে চলে জালিয়াতি appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments