আনঅফিসিয়াল বা অবৈধ ফোন বন্ধে সরকারের এনইআইআর (NEIR) উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে সাধারণ জনগণ। রাজধানীর মোবাইল মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। সামান্য কিছু টাকা বাঁচানোর চেয়ে এখন তারা ফোনের নিরাপত্তা, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা (After-sales service)-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মোতালেব প্লাজা এবং যমুনা ফিউচার পার্কসহ রাজধানীর প্রধান প্রযুক্তি বাজারগুলোর চিত্র এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে ‘আনঅফিসিয়াল’ বা ‘গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট’ ফোনের দোকানে ভিড় ছিল, সেখানে এখন ক্রেতার খরা। অন্যদিকে, অনুমোদিত ব্র্যান্ড শোরুমগুলোতে ভিড় বেড়েছে।
ক্রেতারা কী বলছেন? বসুন্ধরা সিটিতে ফোন কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আগে ভাবতাম আনঅফিসিয়াল কিনলে ৩-৪ হাজার টাকা বাঁচবে। কিন্তু খবরে শুনছি ১৬ ডিসেম্বর থেকে এসব ফোন বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া এগুলো নাকি রিফারবিশড বা নকল হয়। তাই রিস্ক না নিয়ে অফিসিয়াল শোরুম থেকেই কিনলাম। অন্তত শান্তি মতো চালাতে পারব।”
আরেক ক্রেতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারিহা জানান, “আমার এক বন্ধুর আনঅফিসিয়াল ফোনের মাদারবোর্ড নষ্ট হওয়ার পর সে কোনো ওয়ারেন্টি পায়নি। দোকানদার উল্টো দুর্ব্যবহার করেছে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দাম একটু বেশি হলেও আসল ফোনই কিনব। নিরাপত্তার চেয়ে টাকা বড় না।”
বিক্রি কমেছে অবৈধ ফোনের বিক্রেতারা বলছেন, এনইআইআর চালুর ঘোষণার পর থেকেই অবৈধ বা আনঅফিসিয়াল ফোনের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। মোতালেব প্লাজার এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ক্রেতারা এখন দোকানে এসে আগেই জিজ্ঞেস করেন—এটা বিটিআরসি নিবন্ধিত কি না। আনঅফিসিয়াল ফোনের স্টক ক্লিয়ার করতে আমরা ডিসকাউন্ট দিচ্ছি, তবুও মানুষ ভয়ে কিনতে চাইছে না।”
বিপরীতে, দেশীয় উৎপাদিত এবং বৈধভাবে আমদানিকৃত ফোনের বিক্রি বেড়েছে। স্যামসাং, শাওমি, ভিভো ও অপো’র শোরুম ম্যানেজাররা জানান, গ্রাহকরা এখন ‘অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি’ আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়েই ফোন কিনছেন।
নিরাপত্তা ও সেবায় গুরুত্ব প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রাহকদের এই মানসিক পরিবর্তন দেশের মোবাইল খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
১. প্রতারণা থেকে মুক্তি: মানুষ বুঝতে পারছে যে আনঅফিসিয়াল মানেই ‘রিফারবিশড’ বা ‘নকল’ হওয়ার ঝুঁকি।
২. সেবার নিশ্চয়তা: অফিসিয়াল ফোনে ১ বছরের ওয়ারেন্টি ও পার্টস পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে, যা আনঅফিসিয়াল ফোনে নেই।
৩. রাষ্ট্রের লাভ: বৈধ ফোন কিনলে সরকার রাজস্ব পায়, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠকরা বলছেন, এনইআইআর নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি থাকলেও এখন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে যে, এটি তাদের সুরক্ষার জন্যই করা হয়েছে। চোর বা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে আসল ফোনের কোনো বিকল্প নেই।
The post নিরাপত্তা ও ওয়ারেন্টিই এখন প্রধান: অফিসিয়াল ফোনের দিকে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments