রিফারবিশড ফোন চেনার উপায়

বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে, বিশেষ করে ‘গ্রে মার্কেট’-এ ‘রিফারবিশড’ (Refurbished) বা পুরোনো ফোনের ছড়াছড়ি। ‘নতুন’ বা ‘ইনট্যাক্ট’ মনে করে এসব ফোন কিনে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি এখন সবচেয়ে বেশি।

একজন সাধারণ ক্রেতা হিসেবে একটি ফোন আসল নতুন, নাকি রিফারবিশড (পুরোনো ফোন নতুনের মতো সাজানো)—তা চেনার কিছু কার্যকর ও কারিগরি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. আইফোন (iPhone) চেনার উপায়

আইফোনই সবচেয়ে বেশি রিফারবিশড বা ‘ক্লোন’ করে বিক্রি হয়। এটি চেনার উপায়গুলো হলো:

  • মডেল নম্বর চেক করা:

    • ফোনের Settings > General > About-এ যান।

    • সেখানে Model Number লক্ষ্য করুন। প্রথম অক্ষরটি দেখুন:

      • M: ব্র্যান্ড নিউ (Brand New) ডিভাইস।

      • F: অ্যাপল স্বীকৃত রিফারবিশড (Apple Certified Refurbished)।

      • N: রিপ্লেসমেন্ট ডিভাইস (আগেরটি নষ্ট হওয়ায় অ্যাপল বদলে দিয়েছে)।

      • P: পারসোনালাইজড (নাম খোদাই করা)।

    • সতর্কতা: অসাধু ব্যবসায়ীরা সফটওয়্যার দিয়ে এই মডেল নম্বর বদলে ‘M’ করে রাখতে পারে। তাই শুধু এটার ওপর নির্ভর করবেন না।

  • থ্রি-ইউ টুলস (3uTools) টেস্ট (সবচেয়ে কার্যকর):

    • একটি পিসি বা ল্যাপটপে 3uTools সফটওয়্যারটি ইনস্টল করুন।

    • ডেটা ক্যাবল দিয়ে আইফোনটি কানেক্ট করুন এবং ‘View Verification Report’-এ ক্লিক করুন।

    • যদি দেখেন ফোনের ব্যাটারি, ডিসপ্লে বা ক্যামেরার সিরিয়াল নম্বর ‘Red’ (লাল) দেখাচ্ছে বা ‘Testing Score’ ১০০-এর কম, তবে বুঝবেন ফোনটি খোলা হয়েছে এবং যন্ত্রাংশ বদলানো হয়েছে। এটি রিফারবিশড ধরার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

  • অ্যাক্টিভেশন ডেট চেক:

    • ফোনের বক্সে থাকা সিরিয়াল নম্বরটি নিয়ে অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (Check Coverage) এ দিন।

    • যদি দেখেন ফোনটি কেনার আগেই ‘Activated’ এবং ওয়ারেন্টি ডেট অনেক কমে গেছে বা শেষ, তবে বুঝবেন এটি ব্যবহৃত ফোন।

  • Parts and Service History:

    • iOS 15.2 বা এর পরের ভার্সনে Settings > General > About-এ গেলে যদি কোনো পার্টস (যেমন ব্যাটারি বা ডিসপ্লে) নকল হয়, তবে সেখানে “Unknown Part” লেখা থাকবে। আসল হলে “Genuine Apple Part” দেখাবে।

২. অ্যান্ড্রয়েড (Android) ফোন চেনার উপায়

  • সিক্রেট কোড ব্যবহার (RTN Check):

    • ডায়াল প্যাডে গিয়ে ##786# (RTN) অথবা *#*#786#*#* ডায়াল করুন।

    • যদি ‘Reconditioned’ স্ট্যাটাস আসে, তবে সেটি রিফারবিশড। (এটি সব মডেলে কাজ নাও করতে পারে)।

  • অ্যাক্টিভেশন ডেট:

    • শাওমি, স্যামসাং বা অন্যান্য ব্যান্ডের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বা IMEI.info তে গিয়ে আইএমইআই (IMEI) নম্বর দিয়ে চেক করুন ফোনটি কবে প্রথম অ্যাক্টিভ হয়েছিল। কেনার তারিখের সাথে না মিললে সেটি পুরোনো।

৩. বাহ্যিক বা ফিজিক্যাল পরীক্ষা (সবার জন্য প্রযোজ্য)

  • চার্জিং পোর্টের দাগ:

    • ফোনটি একদম নতুন হলে চার্জিং পোর্টের ভেতরে বা আশেপাশে কোনো দাগ (Scratch) থাকার কথা নয়। যদি পোর্টের ভেতরে ধাতব অংশে ঘষার দাগ দেখেন, বুঝবেন এটি আগে চার্জ দেওয়া হয়েছে বা ব্যবহৃত।

  • স্ক্রু (Screws) পরীক্ষা:

    • ফোনের নিচের দিকের স্ক্রুগুলো ভালো করে দেখুন। যদি স্ক্রুর মাথায় কোনো দাগ থাকে বা মনে হয় স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোলা হয়েছিল, তবে নিশ্চিত থাকুন এটি খোলা বা মেরামত করা ফোন।

  • ডিসপ্লে ও ব্রাইটনেস:

    • ফোন চালু করে ব্রাইটনেস সর্বোচ্চ করে একদম সাদা একটি ছবি ওপেন করুন। যদি ডিসপ্লের কোথাও হলুদ ভাব বা ছোপ ছোপ দাগ দেখেন, তবে ডিসপ্লে পরিবর্তন করা হতে পারে।

  • বক্স ও প্যাকেজিং:

    • আসল ফোনের বক্সের লেখাগুলো খুব শার্প (Sharp) এবং স্পষ্ট হয়। রিফারবিশড ফোনের বক্সের লেখা একটু ঝাপসা হতে পারে। বক্সের গায়ে থাকা আইএমইআই (IMEI) স্টিকারটি আসল কিনা দেখুন। অনেক সময় নকল স্টিকার লাগানো থাকে যা নখ দিয়ে ঘষলে উঠে যায়।

৪. মূল্য বা দাম

  • অস্বাভাবিক কম দাম: যদি দেখেন কোনো ফ্ল্যাগশিপ ফোন (যেমন আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স বা স্যামসাং এস২৪ আল্ট্রা) বাজারদরের চেয়ে ১০-১৫ হাজার টাকা কমে ‘অফিসিয়াল’ বা ‘ইনট্যাক্ট’ বলে বিক্রি হচ্ছে, তবে লোভে পড়বেন না। এটি রিফারবিশড হওয়ার সম্ভাবনাই ৯৯%।

পরামর্শ: যেহেতু বর্তমানে এনইআইআর (NEIR) চালু হতে যাচ্ছে এবং বাজারে ‘গ্রে-মাফিয়া’ চক্র সক্রিয়, তাই অথরাইজড শোরুম ছাড়া বা বিটিআরসি ডাটাবেজে আইএমইআই যাচাই না করে কোনো ফোন কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

The post রিফারবিশড ফোন চেনার উপায় appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments