নকল ও রিফার্বিশড ফোনের ছড়াছড়ি

রাজধানীর মোতালেব প্লাজা থেকে শুরু করে বসুন্ধরা সিটি—মোবাইল মার্কেটগুলোতে এখন চকচকে নতুন প্যাকেটের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে নকল ও রিফার্বিশড (Refurbished) ফোনের আবর্জনা। ‘অফিসিয়াল’ বা ‘গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট’-এর তকমা লাগিয়ে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মূলত ‘দুবাই ফেরত’ পুরোনো ফোন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের অবৈধ বা ‘গ্রে’ মোবাইল বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই এখন এই নকল ও রিফার্বিশড ফোনের দখলে। ২০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে একটি শক্তিশালী ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেট, যাদের দৌরাত্ম্যে একদিকে গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

কীভাবে আসছে এই ফোন? সিন্ডিকেটটি মূলত মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে দুবাই এবং সিঙ্গাপুর থেকে ব্যবহৃত বা নষ্ট হয়ে যাওয়া ফোনগুলো নামমাত্র দামে কিনে নেয়। এরপর সেগুলো পাঠানো হয় চীনের গোপন কারখানায়। সেখানে:

১. ফোনের বডি বা কেসিং পরিবর্তন করা হয়।

২. নষ্ট ডিসপ্লে ফেলে দিয়ে লাগানো হয় সস্তা ও নিম্নমানের ডিসপ্লে।

৩. আসল ব্যাটারি সরিয়ে বসানো হয় নকল ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটারি।

৪. সবশেষে হুবহু আসল ফোনের মতো প্যাকেটজাত (Master Copy Packaging) করে ‘ইনট্যাক্ট’ বা ‘নতুন’ বলে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

বিস্ফোরিত হচ্ছে ফোন, ঝুঁকিতে জীবন এই নকল যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারিযুক্ত ফোনগুলো গ্রাহকের জন্য এখন ‘টাইম বোমায়’ পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিফার্বিশড ফোনে ব্যবহৃত নিম্নমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত তাপ সহ্য করতে পারে না এবং যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। অথচ ‘সুমাস টেক’, ‘ড্যাজল’ বা ‘টেক অ্যান্ড টক’-এর মতো বিক্রেতারা ১৭-১৮ হাজার টাকায় এসব ফোন বিক্রি করে গ্রাহকদের মৃত্যুকূপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আইফোনও নিরাপদ নয় সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হচ্ছে আইফোনের ক্ষেত্রে। সিন্ডিকেটটি পুরোনো আইফোন মাদারবোর্ডের সঙ্গে নকল ক্যামেরা ও বডি লাগিয়ে ‘ব্র্যান্ড নিউ’ হিসেবে বিক্রি করছে। ৩ইউ টুলস (3uTools) দিয়ে চেক করলেই ধরা পড়ছে যে, এসব ফোনের ব্যাটারি, ক্যামেরা বা ডিসপ্লের সিরিয়াল নম্বর আসল নয়। অথচ সাধারণ গ্রাহকরা সরল বিশ্বাসে লাখ টাকা দিয়ে এসব ‘ইলেকট্রনিক বর্জ্য’ কিনছেন।

১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর: সিন্ডিকেটের আতঙ্ক আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সরকার এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালু করলে এই নকল ও রিফার্বিশড ফোনগুলো আর নেটওয়ার্ক পাবে না। বিটিআরসি’র ডাটাবেজে আইএমইআই (IMEI) না থাকায় এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অচল হয়ে যাবে।

মূলত এই কারণেই লাগেজ পার্টি’র সিন্ডিকেটটি এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং এনইআইআর ঠেকাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

The post নকল ও রিফার্বিশড ফোনের ছড়াছড়ি appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments