ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে অপারেটরস ফোরামের (আইওএফ) বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অনুসন্ধানে এবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, আইওএফ মার্কেট ডেভেলপমেন্ট এক্সপেনসেস (এমডিএস) বাবদ নির্ধারিত তহবিলের কোনো অডিট সম্পন্ন না করেই প্রায় ৯৫ ভাগ অর্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো কম্পিউটারস লিমিটেড-এর নামে লেনদেন করেছে।
দুদকের চিঠিতে বিটিআরসির ‘ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স’ বিভাগের একটি নথির যাবতীয় রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ডপত্র আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
৯হোঁচট খেল বেক্সিমকো কম্পিউটারস
দুদকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আইওএফের অপারেটররা বিটিআরসির সঙ্গে সম্পাদিত লাইসেন্স ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নেটওয়ার্ক উন্নয়নের নামে গঠিত ‘মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’-এর বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে বেক্সিমকো কম্পিউটারসে স্থানান্তর করা হয়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটির আইজিডব্লিউ পরিচালনার কোনো লাইসেন্সই নেই।
৫ সদস্যের অনুসন্ধান টিম
এই অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দুদক পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞাকে দলনেতা করে পাঁচ সদস্যের একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন—উপপরিচালক মশিউর রহমান, নার্গিস সুলতানা, মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এবং সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ
দুদক ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিটিআরসির মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (এমডিএফ) ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় সালমান এফ রহমান, তার ছেলে আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমান এবং সায়ান এফ রহমানসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বাধীন আইওএফের নির্বাহী কমিটির সদস্য।
যেভাবে গড়ে ওঠে সিন্ডিকেট
অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক কল পরিচালনায় নিয়োজিত আইজিডব্লিউ খাতটি কুক্ষিগত করেন সালমান এফ রহমান। তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে গড়ে ওঠে আইওএফ নামের সিন্ডিকেট। অপারেটরদের বাধ্য করা হতো প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ বেক্সিমকো কম্পিউটারস লিমিটেডে জমা দিতে। কিন্তু সেই ফান্ডের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে খোদ আইজিডব্লিউ অপারেটররাই অন্ধকারে ছিলেন।
১২ আসামির জামিন বাতিল
এদিকে, গত ২৭ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ মামলার ১২ আসামির জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। তবে ১০ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন করলে ১৩ নভেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালত সেই জামিন বাতিল করেন।
জামিন বাতিল হওয়া আসামিরা হলেন আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মঈনুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল হান্নান, আশিক আহমেদ, গাজী মো. সালাহউদ্দিন, হাফিজুর রহমান, খালিদ ইসলাম, মো. মাহতাবুল আমিন, সোহেল শরীফ, তাজিন আলম, নাদির শাহ কোরেশী, মীর নাসির হোসেন ও সিসিও মুসফিক মনজুর।
The post আইওএফের অর্থ আত্মসাৎ: বিটিআরসির কাছে নথিপত্র চাইল দুদক appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments