বড় ও শক্তিশালী এআই সিস্টেম নির্বিঘ্নে চালাতে টেক জায়ান্টগুলোর আরো বেশি কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন হচ্ছে। কম্পিউটিং শক্তি আসে বিভিন্ন কম্পিউটার কম্পোনেন্ট থেকে, যার মধ্যে অন্যতম র্যাম বা র্যানডম অ্যাকসেস মেমােরি। কিন্তু বর্তমানে র্যামের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সামনে কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের দাম বাড়তে পারে। কারণ যন্ত্রাংশের ঘাটতি বাজারে চাপ সৃষ্টি করবে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, গত কয়েক মাসে র্যামের দাম অনেক বেড়েছে। অতিরিক্ত চাহিদা ও এআই কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কারণে র্যাম উৎপাদনকারী মাইক্রন (এ খাতে তিনটি প্রধান কোম্পানির একটি) ঘোষণা করেছে, তারা সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের কাছে র্যাম বিক্রি করবে না। এর বদলে শুধু কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করা হবে।
মাইক্রনের ব্যবসাপ্রধান সুমিত সাদানা বলেছেন, ‘ডাটা সেন্টারে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় মেমোরি ও স্টোরেজের চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই কোম্পানি ভোক্তা ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ ও সহায়তা উন্নত করা যাবে।’
মাইক্রন একা নয়, মেমোরি চিপের বাজারে শীর্ষ কোম্পানি স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সও এআই কোম্পানিগুলোর চাহিদা পূরণে মনোযোগ দিচ্ছে। কারণ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে ও র্যাম কিনতে উচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যামসাংয়ের র্যাম উৎপাদন বিভাগ ফোনের জন্য সরবরাহ বন্ধ করেছে। ফলে আসন্ন গ্যালাক্সি এস২৬ মডেলের উৎপাদন ও বাজারজাতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যদিও কোম্পানিটি তা অস্বীকার করছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও লেখক জাভেদ আনোয়ার বলছেন, ‘আমরা সাধারণত ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি বা গুগল জেমিনির মতো এআই সিস্টেম ব্যবহার করি, তাই এর পেছনের জটিল অবকাঠামোর কথা অনেক সময় ভাবি না। কিন্তু এ ব্রাউজার উইন্ডোর পেছনে এক বিশাল এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবার যখন আপনি এআইকে কিছু করতে বলেন, এটি সঠিক ফলাফল দিতে অনেক গ্র্যাফিকস প্রসেসর ও অনেক র্যাম ব্যবহার করে। কারণ এআই-সম্পর্কিত সবকিছুই অত্যন্ত কম্পিউটিং চাহিদাসম্পন্ন, তাই খুব ছোট এআই মডেলগুলোই আমরা কম্পিউটার বা ফোনে চালাতে পারি। ফলে এআই চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কম্পোনেন্টের ওপর চাহিদা অনেক বেশি।’
এআইয়ের চাহিদা গ্র্যাফিকস প্রসেসরের বাজার বদলে দিচ্ছে। ২০১৫ সালের আগে চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়া ভিডিও গেমারদের জন্য প্রসেসর বানাত। কিন্তু কোম্পানিটি এখন মূলত এআই প্রযুক্তির জন্য হার্ডওয়্যার সরবরাহ করছে। এএমডিও একই পথে রয়েছে। কোম্পানিটিও ধীরে ধীরে এআই প্রসেসর তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রবৃদ্ধির ফলে র্যামের ওপর চাপ বেড়েছে। যেমন ল্যাপটপ যদি ১৬ জিবি বা ৩২ জিবি র্যাম দিয়ে চলে, তবে একটি এআই মেশিন ৪-৬ টেরাবাইট র্যাম ব্যবহার করতে পারে।
ভারতে সম্প্রতি উন্মোচিত উচ্চমূল্যের ফোনগুলো প্রায় ৭০ হাজার রুপি বা তার বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে গত বছর এ ধরনের ফোনের দাম ছিল ৫০-৬০ হাজারের মধ্যে।
The post কম্পিউটার ও ফোনের দাম বাড়াতে পারে এআইয়ের উচ্চ চাহিদা appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments