এনইআইআর এর মাধ্যমে জননিরাপত্তাই হবে মূল লক্ষ্য

মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই এবং অজ্ঞাত পরিচয়ে মোবাইলে হুমকি বা চাঁদাবাজি—দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ বলছে, অধিকাংশ অপরাধের পেছনে ব্যবহৃত হয় অনিবন্ধিত বা ‘গ্রে মার্কেট’-এর ফোন, যার প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) প্রযুক্তিকে অপরাধ দমনে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল রাজস্ব আদায় নয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই প্রযুক্তি অপরিহার্য।

এনইআইআর চালুর সবচেয়ে বড় সুফল পাবেন সাধারণ গ্রাহকরা। বর্তমানে একটি দামী ফোন চুরি বা ছিনতাই হলে চোরচক্র সহজেই এর আইএমইআই (IMEI) পরিবর্তন করে বা ফ্লাশ করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু এনইআইআর চালু হলে:

অকার্যকর ডিভাইস: গ্রাহক অভিযোগ করলেই বিটিআরসি ওই হ্যান্ডসেটটি নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন বা ব্লক করে দেবে। ফলে সিম বদলালেও চোর ওই ফোন দিয়ে আর কল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে না।

মূল্যহীন ফোন: চুরি করা ফোনটি তখন একটি ‘প্লাস্টিকের খেলনা’ বা গান শোনার যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। রিসেল ভ্যালু (Resale Value) না থাকায় চুরির মোটিভ বা আগ্রহ কমে যাবে।

সন্ত্রাসী, জঙ্গি গোষ্ঠী এবং অপহরণকারীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে সাধারণত অনিবন্ধিত বা ভুয়া আইএমইআইযুক্ত ফোন ব্যবহার করে। এনইআইআর সিস্টেমে প্রতিটি সচল ফোন একটি নির্দিষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিবন্ধিত সিমের সঙ্গে ট্যাগ বা যুক্ত থাকবে।

শনাক্তকরণ সহজ: কোনো ফোন থেকে হুমকি বা অপরাধমূলক কাজ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহজেই ওই ডিভাইসের অবস্থান এবং ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারবে।

ক্লোন ফোনের ঝুঁকি হ্রাস: বর্তমানে একই আইএমইআই নম্বরে হাজার হাজার ‘ক্লোন ফোন’ বাজারে চলছে। অপরাধীরা এসব ফোন ব্যবহার করলে নির্দোষ ব্যক্তি ফেঁসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এনইআইআর এই জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ করবে।

মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) জালিয়াতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ক্ষেত্রেও অপরাধীরা অনিবন্ধিত ডিভাইস ব্যবহার করে। এনইআইআর চালু হলে প্রতিটি ডিভাইসের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা ‘ডিজিটাল স্বাক্ষর’ সংরক্ষিত থাকবে, যা সাইবার অপরাধের তদন্তে পুলিশকে শতভাগ সহায়তা করবে।

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের তদন্তে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ‘আনট্রেসেবল’ হ্যান্ডসেট। অনেক সময় দেখা যায়, অপরাধী যে ফোনটি ব্যবহার করছে, তার কোনো বৈধ কাগজ নেই বা আইএমইআই ভুয়া। এনইআইআর চালু হলে প্রতিটি হ্যান্ডসেট মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে, যা অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে।”

১. চুরি রোধ: চুরি যাওয়া ফোন লক করার সুবিধা।

২. অপরাধী শনাক্ত: সিম ও হ্যান্ডসেটের নিবন্ধনে স্বচ্ছতা।

৩. ক্লোন বন্ধ: ভুয়া বা ডুপ্লিকেট আইএমইআইযুক্ত ফোন অচল।

৪. স্বাস্থ্যঝুঁকি: মানহীন ও উচ্চ রেডিয়েশনযুক্ত ফোন আমদানি বন্ধ।

যদিও এনইআইআর নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যবসায়িক ক্ষতির উদ্বেগ রয়েছে, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জান-মালের সুরক্ষার প্রশ্নে এই প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাংলাদেশে ডিজিটাল অপরাধের গ্রাফ নিম্নমুখী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

The post এনইআইআর এর মাধ্যমে জননিরাপত্তাই হবে মূল লক্ষ্য appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments