২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা

২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্ত্রাংশ ও মেমোরি চিপের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে আগামী বছর বৈশ্বিক স্মার্টফোন সরবরাহ ২ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে। এতে স্মার্টফোন বাজারে ধীরগতির প্রবণতা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে সরবরাহ মন্দার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনর, অপো ও ভিভোর ওপর। ব্র্যান্ডগুলো মূলত কম ও মাঝারি দামের স্মার্টফোন বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের বিল অব ম্যাটেরিয়ালস (বিওএম) বা উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০০ ডলারের নিচের দামের স্মার্টফোনগুলোর ক্ষেত্রে চলতি বছরের শুরু থেকে এ খরচ ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে মাঝারি ও উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনে এ খরচ বৃদ্ধি ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কাউন্টারপয়েন্টের ‘মেমোরি সলিউশনস ফর জেনারেটিভ এআই’ শীর্ষক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) পর্যন্ত মেমোরির দাম আরো ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে বর্তমান উচ্চ উৎপাদন খরচের সঙ্গে আরো ৮-১৫ শতাংশ বা তার বেশি যোগ হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কম দামের স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এ বাড়তি খরচ সরাসরি গ্রাহকদের ওপর চাপানো কঠিন। কারণ এ বাজারের ক্রেতারা অত্যন্ত মূল্যসংবেদনশীল। দাম বেশি হলে চাহিদা দ্রুত কমে যেতে পারে। তাই অনেক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে কম দামের মডেলের সংখ্যা কমিয়ে আনতে শুরু করেছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন খরচ সামাল দিতে স্মার্টফোন নির্মাতারা পণ্যের তালিকা পুনর্গঠন করছে। কম দামের ফোনের বিভিন্ন সংস্করণ বা এসকেইউ কমিয়ে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে গড় বিক্রিমূল্য বাড়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোনের গড় বিক্রিমূল্য ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়তে পারে। আগের পূর্বাভাসে গড় বিক্রিমূল্য ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় ও শক্তিশালী ব্র্যান্ডগুলো তুলনামূলকভাবে এ সংকট সামাল দিতে পারবে। বিশেষ করে অ্যাপল ও স্যামসাং তাদের বড় পরিসরের উৎপাদনক্ষমতা, উচ্চমূল্যের পণ্যের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে অন্যান্য ব্র্যান্ডের জন্য বাজার দখল ও মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। খরচ কমাতে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও মেমোরির মতো কিছু যন্ত্রাংশের মান কমানো, পুরনো উপাদান পুনর্ব্যবহার এবং গ্রাহকদের বেশি দামের ‘প্রো’ মডেলের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে বাড়তি উৎপাদন খরচের প্রভাব ২০২৬ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের চিত্র বদলে দিতে পারে।

The post ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments