ল্যাপটপ ভালো রাখতে যে পাঁচ অভ্যাস পরিহার করা জরুরি

ল্যাপটপ এখন শুধু বিলাসী প্রযুক্তি নয়, বরং কাজ, পড়াশোনা ও বিনোদনের জন্য দৈনন্দিন জীবনে এখন একটি অপরিহার্য যন্ত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপ কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়া, ব্যাটারির চার্জ কম ধরে রাখা বা অতিরিক্ত গরম হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীদের কিছু সাধারণ ভুল অভ্যাসের কারণে ল্যাপটপের ক্ষয়ক্ষতি স্বাভাবিকের চেয়েও তাড়াতাড়ি ঘটে। এতে একদিকে যেমন ব্যাটারির আয়ু কমে, অন্যদিকে নষ্ট হয় যন্ত্রাংশ এবং কমে যায় ল্যাপটপের পুনর্বিক্রয়মূল্য। একটু সচেতন হলেই এসব সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেক ইউজ অব (এমইউও) অবলম্বনে এখানে এমনই পাঁচটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হলো—

চার্জার অসতর্কভাবে ব্যবহার করা

অনেক ব্যবহারকারীই ল্যাপটপের চার্জারকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন না। তার পেঁচিয়ে শক্ত করে বাঁধা, বারবার ভাঁজ করা, ভারী জিনিসের নিচে চাপা দেয়া বা মেঝেতে ফেলে রাখা সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু বাস্তবে চার্জারের তারের ভেতরের অংশ খুব সংবেদনশীল। ফলে ভেতরের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চার্জার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব ল্যাপটপে নির্দিষ্ট বা আলাদা ধরনের চার্জার লাগে, সেগুলো নষ্ট হলে নতুন চার্জার পাওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়। তাই চার্জারের তার ঢিলেঢালা করে গুটিয়ে রাখা, পোষাপ্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা এবং ভ্রমণের সময় আলাদা পাউচে বহন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফ্যানের বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা

বিছানা, বালিশ বা কম্বলের ওপর ল্যাপটপ রেখে কাজ করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এতে ল্যাপটপের নিচে বা পাশে থাকা বাতাস চলাচলের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভেতরের গরম বাতাস বের হতে না পারায় অতিরিক্ত তাপ জমে এবং ফ্যান বেশি জোরে ঘুরতে থাকে। দীর্ঘদিন এভাবে ব্যবহার করলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়, প্রসেসরের কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শক্ত ও সমতল জায়গায় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে বা একটি সাধারণ ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যবহার করলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে।

নিয়মিত পরিষ্কার না করা

ল্যাপটপের ভেতরে ও বাইরে ধুলাবালি জমা হওয়াও একটি বড় সমস্যা। ফ্যান ও ভেন্টে বা হিটসিংকে ধুলো জমে গেলে ঠাণ্ডা করার ক্ষমতা কমে যায়। ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হয় এবং ফ্যান বেশি শব্দ করে। কয়েক মাস পর পর কমপ্রেসড এয়ার দিয়ে ভেন্ট পরিষ্কার করলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি কি-বোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাডে খাবারের কণা, ময়লা ও তেল জমে গেলে বোতাম শক্ত বা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিলে এসব সমস্যা এড়ানো যায়।

ল্যাপটপকে অযত্নে ব্যবহার করা

নতুন ল্যাপটপের ক্ষেত্রে যত্নশীল থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে যত্ন কমে যায়। স্ক্রিন ধরে তোলা, ব্যাগে কভার ছাড়া রাখা বা ভারী জিনিসের সঙ্গে চাপা দিয়ে বহন করলে স্ক্রিন ও হিঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামত করা ব্যয়বহুল। শিশু বা পোষাপ্রাণীর অসাবধানতায়ও ল্যাপটপের বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই ল্যাপটপ ব্যবহার শেষে ঢাকনা বন্ধ রাখা, পানীয় দূরে রাখা এবং সঠিক কভার, স্লিভ বা কেস ব্যবহার করা জরুরি।

পুনর্বিক্রয়মূল্যের কথা না ভাবা

ল্যাপটপ ভালোভাবে কাজ করলেও সামান্য আঁচড়, ফাটল বা আসল চার্জার না থাকলে বিক্রির সময় দাম অনেক কমে যায়। ট্রেড-ইন বা পুনরায় বিক্রির ক্ষেত্রে বাহ্যিক অবস্থাকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ল্যাপটপ গ্রহণই করে না। তাই শুরু থেকেই ল্যাপটপ যত্নে রাখলে ভবিষ্যতে ভালো দামে বিক্রি বা আপগ্রেড করা সম্ভব হয়।

সব মিলিয়ে ল্যাপটপকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে খুব জটিল কিছু করতে হয় না। দৈনন্দিন ছোটখাটো অভ্যাস বদলালেই যন্ত্রের আয়ু বাড়ে, খরচ কমে এবং ভবিষ্যতে বিক্রির সময়ও ভালো সুবিধা পাওয়া যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

The post ল্যাপটপ ভালো রাখতে যে পাঁচ অভ্যাস পরিহার করা জরুরি appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments