পেপ্যাল কি সত্যিই আসছে? আইসিটি বিভাগের বৈঠকে ‘ইতিবাচক’ ইঙ্গিত

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (PayPal) চালু হওয়া নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। গতকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) আইসিটি বিভাগ, দেশের ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি এবং পেপ্যালের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিগত সময়ের মতো সরকারের ‘একতরফা’ আলোচনা নয়, বরং এবার ফ্রিল্যান্সারদের সরাসরি পেপ্যাল প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব।

বৈঠকে পেপ্যালের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের চারজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ফ্রিল্যান্স কমিউনিটির পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়।

ফ্রিল্যান্সাররা জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রেমিট্যান্স দেশে আনার ক্ষেত্রে পেওনিয়ার (Payoneer), স্ট্রাইপ বা ওয়াইজের মাধ্যমে লেনদেনে অতিরিক্ত চার্জ এবং সময়ের অপচয় হচ্ছে। কেন বাংলাদেশের জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে অপরিহার্য, তা পেপ্যাল প্রতিনিধিদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

ফ্রিল্যান্সার কাজী মামুন কমিউনিটির পক্ষে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন। তিনি দেখান যে, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত এখন আর শুধু আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো মার্কেটপ্লেসে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এজেন্সি ব্যবসা, এফবিএ, ড্রপ শিপিং, স্যাস (SaaS), প্লাগ-ইন ডেভেলপমেন্ট, ই-কমার্স এবং রিমোট জবের মতো খাতগুলোতে বিশাল আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা পেপ্যাল না থাকায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত উদ্যোক্তা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “পেপ্যাল প্রতিনিধিদের মনোভাব ছিল বেশ ইতিবাচক। তারা বাংলাদেশের বাজারের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নোট করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে জেনে নিয়েছেন।” লুৎফে সিদ্দিকী তার দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আলোচনাটি ফলপ্রসূভাবে সমন্বয় করেন।

জানা গেছে, পেপ্যাল প্রতিনিধিরা আগামী দুই থেকে তিন দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। এ সময়ের মধ্যে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিডা (BIDA)-এর চেয়ারম্যান এবং একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে নীতিনির্ধারণী বৈঠক করবেন। এসব আলোচনার পর তারা ফিরে গিয়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে ভবিষ্যতে স্ট্রাইপ (Stripe) আসার পথও সুগম হবে এবং ওয়াইজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালার কিছু বিষয়ে সুরাহা হলে এবং পেপ্যাল ইতিবাচক সাড়া দিলে তা হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক।

The post পেপ্যাল কি সত্যিই আসছে? আইসিটি বিভাগের বৈঠকে ‘ইতিবাচক’ ইঙ্গিত appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments