ওয়ারেন্টি থাকলেও দিতে হয় টাকা: রায়ান্সের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির পাহাড়সম অভিযোগ

দেশের অন্যতম শীর্ষ কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘রায়ান্স কম্পিউটারস’-এর বিরুদ্ধে সার্ভিসিংয়ের নামে প্রতারণা, ওয়ারেন্টি প্রদানে টালবাহানা এবং কর্মীদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভুক্তভোগী তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যা থেকে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সার্ভিসিংয়ে দেওয়া ল্যাপটপে সুপার গ্লু লাগিয়ে ফেরত দেওয়া, ওয়ারেন্টি থাকার পরও টাকা দাবি করা এবং পণ্য বদলানোর ক্ষেত্রে অসহযোগিতা এখন রায়ান্সের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সার্ভিসিংয়ের নামে ল্যাপটপ নষ্ট করার অভিযোগ

রবিউল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তিন মাস আগে তিনি ব্যাটারি আইসির সমস্যার কারণে তার এইচপি (HP) ল্যাপটপটি রায়ান্সে জমা দেন। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ দিন সময় নিয়েও সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। উল্টো ল্যাপটপ ফেরত পাওয়ার পর তিনি দেখেন, পার্টসগুলো খোলার পর তা সুপার গ্লু দিয়ে কোনোমতে জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিউল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা কোনো কাজই করতে পারেনি। অযথা সময় নষ্ট করেছে। তাদের গাফিলতির কারণে পরে অন্য জায়গায় ল্যাপটপটি ঠিক করতে আমার ১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে।”

ওয়ারেন্টি বিড়ম্বনা ও পণ্য ফেরত না নেওয়া

কামাল উদ্দিন নামের এক গ্রাহক গুলশান শাখা থেকে তিনটি হেডফোন কিনেছিলেন। মাত্র এক ঘণ্টা পর তিনি সেগুলো বদলে আরও ভালো মানের হেডফোন নিতে চাইলে ম্যানেজার সাফ জানিয়ে দেন, “বদলানোর নিয়ম নেই।” কামাল উদ্দিন বলেন, “ডিসকাউন্ট আইটেম ছাড়া নরমাল প্রাইসে কেনা পণ্য এক্সচেঞ্জ হয় না—এটা দুনিয়ার কোথাও নেই। তারা সম্ভবত দুই নম্বর প্রডাক্ট বিক্রি করে, তাই ফেরত নেয়নি। রাগে আমি তাদের সামনেই হেডফোনগুলো ভেঙে ফেলে দিয়ে এসেছি।”

জামিল হোসেন নামের আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ওয়ারেন্টি থাকা সত্ত্বেও তার প্রিন্টারটি ঠিক করে দেয়নি রায়ান্স। বাধ্য হয়ে নিজের টাকা খরচ করে তাকে প্রিন্টার মেরামত করতে হয়েছে। তিনি তাদের ওয়ারেন্টি সেবাকে ‘অত্যন্ত বাজে’ বলে অভিহিত করেন।

কর্মীদের দুর্ব্যবহার ও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন

নিকেতন মজুমদার অনিক অভিযোগ করেন, রায়ান্সের মাল্টিপ্ল্যান শাখার কর্মীদের আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর। তিনি বলেন, “ডাকাতি দাম রাখে, তাহলে ভোগান্তি কেন? কিছু অশিক্ষিত লোক নিয়োগ দিয়েছে, যাদের ব্যবহার খুব খারাপ।” একই অভিযোগ আদনান ফেরদৌস লিওর। তিনিও এক বিক্রয়কর্মীর বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলেছেন।

পণ্যের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, “রায়ান্সের পণ্য কিনলে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ৩ জনই নষ্ট পণ্য নিয়ে ফেরত আসে।”

অনুমোদিত পণ্যের আড়ালে ‘অবৈধ’ পণ্য

ইমরান তুষার নামের এক গ্রাহক রায়ান্সের আইডিবি শাখার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, সেখানে অনুমোদিত পণ্যের পাশাপাশি অননুমোদিত বা ‘থার্ড পার্টি’র পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “স্যানডিস্ক (SanDisk)-এর মেমোরি পণ্যের পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজিস হওয়া সত্ত্বেও রায়ান্সের কাছে থার্ড পার্টির পণ্য ছিল। আমি নিজেই এর প্রমাণ।”

=ভোক্তা অধিকার কর্মীরা বলছেন, একটি নামী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন অপেশাদার আচরণ কাম্য নয়। সার্ভিসিংয়ের নামে পণ্য নষ্ট করা এবং ওয়ারেন্টি অস্বীকার করা ভোক্তা অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ভুক্তভোগীদের উচিত এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা।

The post ওয়ারেন্টি থাকলেও দিতে হয় টাকা: রায়ান্সের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির পাহাড়সম অভিযোগ appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments