আন্তর্জাতিক বাজারের আগেই দেশে অস্থিরতা: আনঅফিসিয়াল ফোনের দাম বাড়ল

বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের চিপসেট বা ডিসপ্লের দাম বাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে মাত্র, কিন্তু তার আগেই দেশের আনঅফিসিয়াল বা ‘গ্রে মার্কেট’-এ ফোনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো দাম কার্যকর না হলেও, ঢাকার মোতালেব প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগাম অজুহাতে গ্রাহকদের পকেট কাটছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে গুগল পিক্সেল, ওয়ানপ্লাস, শাওমি এবং আইফোনের বিভিন্ন আনঅফিসিয়াল মডেলের দাম মডেলভেদে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর মোবাইল মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা ফোনের দাম বেশি রাখার পেছনে অদ্ভুত সব যুক্তি দেখাচ্ছেন। বসুন্ধরা সিটিতে ফোন কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আমি গত সপ্তাহে যে গুগল পিক্সেল ৮-এর দাম দেখে গেলাম ৪৫ হাজার টাকা, আজ এসে দেখি সেটা ৫৪ হাজার টাকা চাইছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে দোকানদার বলে—‘চীনে দাম বাড়ছে, সামনে আরও বাড়বে, তাই এখন রেট বেশি’। অথচ এই ফোন তো তাদের আগের স্টকের।”

পুরোনো স্টকে নতুন দাম

জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে যেসব আনঅফিসিয়াল ফোন রয়েছে, তার বড় অংশই অন্তত ১৫-২০ দিন আগে লাগেজ পার্টি বা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে ঢুকেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাইকারি বিক্রেতা স্বীকার করেন, “আমাদের কেনা রেট আগেরই। কিন্তু মার্কেটে সিন্ডিকেট করে বলা হচ্ছে ডলার রেট হাই এবং দুবাইয়ে শর্ট সাপ্লাই। এই অজুহাতে পুরোনো মাল নতুন রেটে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা করা হচ্ছে।”

সবচেয়ে বেশি প্রভাব যেসব ফোনে দাম বাড়ার এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে ফ্ল্যাগশিপ ও মিড-রেঞ্জ ফোনগুলোতে:

আইফোন: আইফোন ১৫ ও ১৬ সিরিজের আনঅফিসিয়াল ভ্যারিয়েন্টগুলোতে ১০-১৫ হাজার টাকা বাড়তি চাওয়া হচ্ছে। আইফোন ১৭ সিরিজের আনঅফিসিয়াল ভ্যারিয়েন্টগুলোতে ২০- ২৫ হাজার টাকা বাড়তি চাওয়া হচ্ছে।

গুগল পিক্সেল ও স্যামসাং: পিক্সেল ৭, ৮ সিরিজ এবং স্যামসাংয়ের এস সিরিজের বিদেশি ভ্যারিয়েন্টগুলোর দামও চড়া।

শাওমি ও রিয়েলমি: চায়না রিজিয়নের ফোনগুলোর (যা গ্লোবাল রম দিয়ে চালানো হয়) দামও ৩-৭ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।

আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছিলেন, তারা ভোক্তার স্বার্থে রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলন থামতেই চিত্র উল্টো। সাদমান ইসলাম নামের এক ক্ষুব্ধ ক্রেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আপনাদের আন্দোলন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সব ফোনের প্রাইস বেড়ে গেছে, তাই না? এখন এইসব ভন্ডমি বাদ দেন। এখন চাহিদা একটু বেশি হওয়াতে আপনারা প্রাইস বাড়িয়ে দিছেন। এবার শুধু আন্দোলন করেন, মানুষ দিবে এবার আপনাদের।”

সাধারণত অফিসিয়াল ফোনের চেয়ে আনঅফিসিয়াল ফোনের দাম ৩০-৪০ শতাংশ কম থাকে বলে ক্রেতারা ঝুঁকি নিয়ে এগুলো কেনেন। কিন্তু বর্তমান সিন্ডিকেটের কারণে এই দামের ব্যবধান কমে আসছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও ব্লগাররা বলছেন, “আনঅফিসিয়াল ফোনের দাম যদি অফিসিয়ালের কাছাকাছি চলে যায়, তবে ওয়ারেন্টি ও এনইআইআর (NEIR) ঝুঁকি নিয়ে এসব ফোন কেনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ব্যবসায়ীরা অতি লোভে এখন বাজার নষ্ট করছেন।”

ভোক্তারা বলছেন, আনঅফিসিয়াল মার্কেট এমনিতেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেখানে কোনো জবাবদিহিতা নেই। এনইআইআর নিয়ে কড়াকড়ির খবরের মধ্যেও দাম কমার বদলে উল্টো বাড়িয়ে দেওয়াটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের দিকে ঝুঁকছেন।

The post আন্তর্জাতিক বাজারের আগেই দেশে অস্থিরতা: আনঅফিসিয়াল ফোনের দাম বাড়ল appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments