ফোন ব্যবসায়ীদের দাবি কতটুকু মানল সরকার

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়ন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকার ও মোবাইল ব্যবসায়ীদের মধ্যকার টানাপোড়েন অবশেষে একটি পরিণতির দিকে যাচ্ছে। আন্দোলনের মুখে সরকার এনইআইআর বাস্তবায়নের ১৬ ডিসেম্বরের সময়সীমা থেকে একচুলও নড়েনি, তবে ব্যবসায়ীদের ‘অস্তিত্ব রক্ষা’র স্বার্থে আমদানিনীতি ও বর্তমান মজুত (Stock) বৈধ করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরকারের একটি কৌশলগত বিজয়। ক্লোন বা রিফারবিশড ফোনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে আসল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের বৈধ পথে আনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

সরকার যেসব দাবি মেনে নিয়েছে (ছাড়):

১. বর্তমান মজুত বৈধ করার সুযোগ: ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় দাবি ছিল তাদের হাতে থাকা হাজার কোটি টাকার অবিক্রিত ফোনের কী হবে। বিটিআরসি মেনে নিয়েছে যে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা তাদের স্টকে থাকা আনঅফিসিয়াল (কিন্তু আসল) ফোনের আইএমইআই (IMEI) তালিকা নির্ধারিত ছকে জমা দিলে সেগুলোকে বিটিআরসি সিস্টেমে নিবন্ধন বা বৈধ করে নেওয়া হবে।

২. আমদানি প্রক্রিয়া ও ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সহজীকরণ: এতদিন বিদেশ থেকে ফোন আনতে হলে সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (Manufacturer) সঙ্গে চুক্তির প্রয়োজন হতো, যা ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। সরকার এই শর্ত শিথিল করেছে। এখন থেকে মূল উৎপাদনকারীর পাশাপাশি যেকোনো ‘অনুমোদিত সরবরাহকারী’ (Authorized Supplier)-এর প্রত্যয়নপত্র জমা দিলেই বিটিআরসি আমদানির অনুমতি ও ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সনদ দেবে। এটি সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় জয়।

৩. শুল্ক কমানোর উদ্যোগ: ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল ৫৭ শতাংশ উচ্চ কর কমানো। যদিও এটি তাৎক্ষণিকভাবে কমেনি, তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে এনবিআরকে (NBR) শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার চিঠি দিয়েছে। এনবিআর নীতিগতভাবে এতে সম্মত হয়েছে।

সরকার যেসব দাবি মানেনি (কঠোর অবস্থান):

১. সময়সীমা বৃদ্ধি: ব্যবসায়ীরা এনইআইআর বাস্তবায়নের জন্য আরও ৬ মাস সময় চেয়েছিলেন। সরকার এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকেই এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।

২. ক্লোন ও রিফারবিশড ফোন: ব্যবসায়ীদের একাংশ ক্লোন বা কপি ফোন বিক্রির সুযোগ চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেসিং বদলে আনা রিফারবিশড বা নকল ফোনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। এগুলো জব্দ ও ধ্বংস করা হবে।

৩. বিনা প্রশ্নে বৈধতা: স্টকের তালিকা দিলেই সব বৈধ হবে না। বিটিআরসি যাচাই করবে ফোনগুলো আসল কি না। নকল প্রমাণিত হলে তা নিবন্ধিত হবে না।

 সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ড্যাজেল’ বা ‘সুমাস টেক’-এর মতো বড় আমদানিকারকরা স্বাগত জানালেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নেতারা নিজেদের আমদানির পথ (ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট) সহজ করে আন্দোলন থেকে সরে গেছেন, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে ৫৭% ট্যাক্স না কমায় ছোটরা এখনো ঝুঁকির মুখে।

আইসিটি উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়বের মতে, “সরকার এখানে কোনো আপস করেনি, বরং একটি যৌক্তিক সমাধান বের করেছে। এনইআইআর চালু হচ্ছে—এটিই মূল কথা। তবে ব্যবসায়ীদের বৈধ পথে আসার দরজাটা খুলে দেওয়া হয়েছে।”

The post ফোন ব্যবসায়ীদের দাবি কতটুকু মানল সরকার appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments