আইফোনের সঙ্গে অ্যানড্রয়েড ফোনের তুলনা কতটা সঠিক

আইফোন (iOS) এবং অ্যানড্রয়েড ফোনের তুলনা দীর্ঘদিনের একটি বিতর্ক। দুটি প্ল্যাটফর্মই এখন অত্যন্ত পরিপক্ক, তবে এদের দর্শন ও কাজের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। নিচে কয়েকটি প্রধান বিষয়ের ভিত্তিতে এই তুলনাটি করা হলো:

১. হার্ডওয়্যার ও ইকোসিস্টেম
আইফোন: অ্যাপল নিজেই ফোনের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার (iOS) তৈরি করে। ফলে আইফোনের প্রতিটি অংশ একে অপরের সাথে দারুণভাবে অপ্টিমাইজড থাকে। আপনি যদি ম্যাকবুক, অ্যাপল ওয়াচ বা এয়ারপড ব্যবহার করেন, তবে আইফোনের সাথে এগুলো যেভাবে কানেক্ট হবে, তা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।

অ্যানড্রয়েড: এটি ওপেন সোর্স। স্যামসাং, শাওমি বা গুগল পিক্সেল—একেক ব্র্যান্ডের হার্ডওয়্যার একেক রকম। এখানে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী ফোল্ডএবল ফোন থেকে শুরু করে গেমিং ফোন—সবই পাবেন।

২. কাস্টমাইজেশন ও স্বাধীনতা
অ্যানড্রয়েড: স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অ্যানড্রয়েড অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফোনের থিম, আইকন, ফন্ট থেকে শুরু করে হোম স্ক্রিন—সবই নিজের মতো সাজানো যায়। এমনকি গুগল প্লে-স্টোরের বাইরে থেকেও অ্যাপ ইনস্টল করা সম্ভব।

আইফোন: অ্যাপল অনেক বেশি সীমাবদ্ধ। তারা ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে রাখতে পছন্দ করে। যদিও বর্তমানে আইওএস (iOS) কিছুটা কাস্টমাইজেশন সুবিধা দিচ্ছে, তবুও অ্যানড্রয়েডের তুলনায় তা খুবই নগণ্য।

৩. অ্যাপের মান ও গেমিং
আইফোন: অধিকাংশ অ্যাপ নির্মাতারা প্রথমে আইফোনের জন্য অ্যাপ তৈরি করেন। আইফোনের হার্ডওয়্যার নির্দিষ্ট হওয়ায় অ্যাপগুলো খুব স্মুথ চলে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোতে (যেমন ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাট) ক্যামেরা কোয়ালিটি আইফোনে অনেক ভালো পাওয়া যায়।

অ্যানড্রয়েড: হাজার হাজার ডিভাইসের জন্য অপ্টিমাইজ করতে হয় বলে অনেক সময় অ্যাপে কিছুটা ‘ল্যাগ’ বা বাগ দেখা দিতে পারে। তবে হাই-এন্ড অ্যানড্রয়েড ফোনগুলোতে এখন এই সমস্যা অনেকটা কমে এসেছে।

৪. নিরাপত্তা ও আপডেট
আইফোন: অ্যাপল তাদের ফোনের নিরাপত্তার ব্যাপারে খুবই কঠোর। ক্লোজড সিস্টেম হওয়ায় ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের আক্রমণ আইফোনে অনেক কম। এছাড়া আইফোন ৫-৬ বছর পর্যন্ত নিয়মিত লেটেস্ট আপডেট পায়।

অ্যানড্রয়েড: ওপেন সোর্স হওয়ায় নিরাপত্তার ঝুঁকি আইফোনের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে গুগল পিক্সেল বা স্যামসাংয়ের মতো ব্র্যান্ডগুলো এখন ৪-৫ বছরের আপডেটের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

৫. বিক্রয়মূল্য (Resale Value)
আইফোন: আইফোনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর রিসেল ভ্যালু। দুই-তিন বছর ব্যবহারের পরও আইফোন বেশ ভালো দামে বিক্রি করা যায়।

অ্যানড্রয়েড: পিক্সেল বা স্যামসাং ছাড়া অধিকাংশ অ্যানড্রয়েড ফোনের দাম দ্রুত পড়ে যায়।

আপনি যদি এমন একটি ফোন চান যা বছরের পর বছর কোনো ঝামেলা ছাড়াই চলবে এবং যার ইকোসিস্টেম খুব শক্তিশালী, তবে আইফোন আপনার জন্য। আর যদি আপনি প্রযুক্তির স্বাধীনতা পছন্দ করেন, নিজের ফোনকে নিজের মতো সাজাতে চান এবং বাজেটের মধ্যে সেরা হার্ডওয়্যার চান, তবে অ্যানড্রয়েড সেরা।

The post আইফোনের সঙ্গে অ্যানড্রয়েড ফোনের তুলনা কতটা সঠিক appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments