বিটিআরসিতে ‘পদোন্নতি রহস্য’: বিতর্কিতদের ভাগ্য খুলতে বারবার পেছানো হচ্ছে বৈঠক

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ইতিহাসে এক বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো সংস্থাটির নীতিনির্ধারণী বৈঠক। কোনো তরঙ্গ বরাদ্দ বা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের কৌশলগত উন্নয়ন নয়, বরং ‘পদোন্নতি রহস্য’ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভাগ্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই দফায় পিছিয়ে গেছে বিটিআরসির ৩০৩তম কমিশন বৈঠক। অডিট আপত্তি এবং শ্বেতপত্রে নাম আসা ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতি দিতেই এই বিলম্ব ও তড়িঘড়ি তৎপরতা চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

পদোন্নতি সভায় নাটকের পর নাটক
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি বিটিআরসি ভবনে বিভাগীয় পদোন্নতি সভা (ডিপিসি) অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অডিট আপত্তি থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা রহস্যজনকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এরপর ২৬ জানুয়ারি জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা স্থগিত করা হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে তার আগেই তড়িঘড়ি করে অভিযুক্তদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে ২৯ জানুয়ারি কমিশন বৈঠকের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

শ্বেতপত্র ও অডিট আপত্তির তোয়াক্কা নেই
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই বিধি-বহির্ভূতভাবে ২৯ জনকে জুনিয়র পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের অডিট ও শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে এই নিয়োগকে ‘অবৈধ’ এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও বর্তমান কমিশন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো দীর্ঘ ৭ বছর ধরে অডিট আপত্তিতে থাকা এসব কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করতেই বারবার সভার তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি।

যোগ্যদের বঞ্চনা ও প্রবিধানমালার মারপ্যাঁচ
বর্তমানে বিটিআরসির ৩৫৫ জন স্থায়ী জনবলের মধ্যে ১৫৩ জনের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২২ সালের নতুন প্রবিধানে ‘সহকারী পরিচালক’ থেকে ‘সিনিয়র সহকারী পরিচালক’ পদটিকে পদোন্নতিযোগ্য করা হলেও প্রবিধানের অস্পষ্টতা ও সংশোধনীর সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে পরিচালক ও উপ-পরিচালক পদে গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদ থাকলেও অযোগ্যদের পথ সুগম করতে যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদায়ন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডিপিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশা
ডিপিসি বৈঠকে উপস্থিত অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিনিধিরা জানান, বৈঠকে তারা অডিট আপত্তিপ্রাপ্তদের পদোন্নতি না দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছিলেন। তবে কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার ‘অতি উৎসাহী’ ভূমিকার কারণে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ না করে বৈঠক বারবার পেছানো হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিটিআরসির বর্তমান চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারীর নেতৃত্বাধীন কমিশন নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে অতীতের মতোই তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। এখন সবার নজর ২৯ জানুয়ারির বৈঠকের দিকে—কমিশন শেষ পর্যন্ত আইনের পথে থাকে নাকি বিতর্কিতদের পক্ষ নিয়ে অনিয়মকেই প্রশ্রয় দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

The post বিটিআরসিতে ‘পদোন্নতি রহস্য’: বিতর্কিতদের ভাগ্য খুলতে বারবার পেছানো হচ্ছে বৈঠক appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments