টোল ফ্রি নম্বর কী? টোল-ফ্রি নম্বরের গুরুত্ব ও ব্যবহারবিধি

আধুনিক ব্যবসায়িক প্রসার এবং সরকারি জরুরি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘টোল-ফ্রি নম্বর’ বর্তমানে একটি অপরিহার্য মাধ্যম। গ্রাহক এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্বের দেয়াল ভেঙে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই সেবাটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

টোল-ফ্রি নম্বর আসলে কী?
সহজ কথায়, টোল-ফ্রি নম্বর হলো এমন একটি বিশেষ টেলিফোন সংযোগ, যেখানে কল করার জন্য কলার বা গ্রাহককে কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না। এই সেবার সম্পূর্ণ বিল বা খরচ বহন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত একটি শক্তিশালী বিপণন ও গ্রাহক সেবা কৌশল, যা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও গ্রাহকবান্ধব আচরণের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে টোল-ফ্রি নম্বর চেনার উপায়
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই নম্বরগুলোর নির্দিষ্ট কিছু প্রিফিক্স (Prefix) বা শুরুর সংখ্যা থাকে।

বাংলাদেশে: সাধারণত ০৮০০ (0800) দিয়ে টোল-ফ্রি নম্বর শুরু হয় (যেমন: ০৮০০-১xxxxx)।

আন্তর্জাতিকভাবে: ১-৮০০, ৮৮৮, ৮৭৭ বা ৮৬৬ নম্বরগুলো টোল-ফ্রি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত।

প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালী: ‘রিভার্স চার্জিং’
সাধারণ কলে কলদাতা বিল দিলেও টোল-ফ্রি কলের ক্ষেত্রে কাজ করে ‘রিভার্স চার্জিং’ পদ্ধতি। যখন কোনো গ্রাহক এই নম্বরে কল করেন, টেলিকম অপারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই কলের বিলটি কল গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে ক্লাউড টেলিকমিউনিকেশন ও আইপি টেলিফোনির (IP Telephony) কল্যাণে এই সেবা পরিচালনা করা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে।

কেন টোল-ফ্রি নম্বর গুরুত্বপূর্ণ?
১. গ্রাহক সন্তুষ্টি: কোনো পণ্যের সমস্যার সমাধান বা তথ্য জানতে গ্রাহককে বাড়তি খরচ করতে হয় না, যা ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়ে দেয়। ২. সহজ যোগাযোগ: বিজ্ঞাপনে একটি সহজ ও ছোট নম্বর থাকলে গ্রাহকের সেটি মনে রাখা সহজ হয়। ৩. দেশব্যাপী উপস্থিতি: একটি মাত্র কেন্দ্রীয় নম্বরের মাধ্যমে সারা দেশের গ্রাহকদের সেবা দেওয়া সম্ভব। ৪. বিশ্বাসযোগ্যতা: ছোট-বড় যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের সরকারি জরুরি সেবা ও টোল-ফ্রি নম্বর
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এই নম্বরগুলো বরাদ্দ দিয়ে থাকে। বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় কয়েকটি সরকারি শর্টকোড জনগণের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (টোল-ফ্রি) রাখা হয়েছে:

৯৯৯: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

৩৩৩: জাতীয় তথ্য ও সেবা।

১০৯: নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল।

ডিজিটাল ইকোনমি এবং ই-কমার্স খাতের এই দ্রুত প্রসারের সময়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জনে টোল-ফ্রি নম্বর হতে পারে প্রধান হাতিয়ার। তবে কেবল নম্বর থাকলেই হয় না, তার পেছনে দক্ষ কল সেন্টার প্রতিনিধি থাকাও একটি উন্নত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সমানভাবে জরুরি।

আপনি কি আপনার ব্যবসার জন্য একটি ০৮০০ বা শর্টকোড নম্বর পাওয়ার নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান?

The post টোল ফ্রি নম্বর কী? টোল-ফ্রি নম্বরের গুরুত্ব ও ব্যবহারবিধি appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments