রাশিয়ার জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম এবং দেশটির সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে মোড় নিয়েছে। রাশিয়ার শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি’র প্রধান আলেকজান্ডার বোর্তনিকভ সরাসরি টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
এই ঘটনাকে রাশিয়ায় টেলিগ্রামের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সরকারের একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পাভেল দুরভ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
পাভেল দুরভ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘চাপ দিয়ে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গোপনীয়তা কেড়ে নেওয়া যাবে না।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এফএসবি প্রধান বোর্তনিকভ বলেন, পাভেল দুরভ নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে টেলিগ্রামের মাধ্যমে সংঘটিত অসংখ্য অপরাধের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। তার দাবি, অ্যাপটির মাধ্যমে কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাসী হামলা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দুরোভের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি ‘অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে অ্যাপটি থেকে উগ্র বিষয়বস্তু সরাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে টেলিগ্রামের গতি কমিয়ে দেওয়ার মতো কড়াকড়ি আরোপ করেছিল রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সম্প্রতি রুশ সরকারের একজন মন্ত্রীও দাবি করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়োজিত রুশ সেনারা টেলিগ্রাম ব্যবহার করার ফলে তাদের বার্তাগুলো বিদেশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহজেই পড়তে পারছে। এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘টেলিগ্রামের এনক্রিপশনে আজ পর্যন্ত কোনো ফাটল কেউ খুঁজে পায়নি। সরকারের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
টেলিগ্রামের দাবি, নাগরিকদের নজরদারির আওতায় আনতে এবং রাশিয়ার নিজস্ব রাষ্ট্রায়ত্ত মেসেজিং অ্যাপ ‘ম্যাক্স’-কে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যেই টেলিগ্রামকে নিষিদ্ধ করার অজুহাত খুঁজছে রাশিয়া সরকার।
মজার বিষয় হলো, রাশিয়ার ভেতরে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে টেলিগ্রামের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। রুশ সেনা, যুদ্ধ সংবাদদাতা এবং রাজনীতিবিদরা একে অপরের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে এই মেসেজিং অ্যাপটিই ব্যবহার করেন।
এমনকি খোদ ইউক্রেন এবং তাঁদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই অ্যাপেই প্রচার করে থাকে। তা স্বত্বেও রাশিয়া সরকার এখন নাগরিকদের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ম্যাক্স’ অ্যাপে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।
রাশিয়া ইতোমধ্যেই টেলিগ্রামের প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্ম মেটা’র হোয়াটসঅ্যাপ এবং অ্যাপলের ফেসটাইমের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এপ্রিলের মধ্যে টেলিগ্রাম রাশিয়ায় পুরোপুরি নিষিদ্ধ হতে পারে। তবে সাধারণ রুশ নাগরিকরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভিপিএন ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
The post টেলিগ্রাম অ্যাপ বন্ধের পায়তারা চলছে, দাবি পাভেল দুরভের appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments