ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে কিশোরদের পর্নোগ্রাফি আর বাস্তব জীবনে সম্পর্কের পার্থক্য শেখানো হবে। লক্ষ্য হচ্ছে, অনলাইনে ছড়ানো নারী বিদ্বেষ, বিষাক্ত পৌরুষবাদ এবং সহিংস আচরণ ঠেকানো।
সরকারের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে যে শিশুদের বয়স ১১ বছর বা তার বেশি এবং যাদের আচরণে নারী বিদ্বেষের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তারা এই কৌশলের আওতায় আসবে বলে এ নিয়ে এক প্রতিবেদনে লিখেছে দেশটির দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান।
শিক্ষকদের জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা অনলাইনে উদ্বেগজনক আচরণ দেখলে কীভাবে তারা হস্তক্ষেপ করবেন, সেটাও শেখানো হবে। পাশাপাশি ক্ষতিকর আচরণের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পাঠানো যাবে বিশেষ আচরণগত কোর্সে।
এই উদ্যোগের ঘোষণা দিতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “প্রত্যেক অভিভাবকের নিশ্চিন্ত থাকার কথা যে, তার মেয়েটি স্কুল, অনলাইন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কে নিরাপদ রয়েছে।”
“কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিষাক্ত ধারণা খুব অল্প বয়সেই গড়ে উঠছে এবং সেই ধারণাগুলোকে কেউ চ্যালেঞ্জ করছে না।”
সরকারি কৌশলে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এতে ডিপফেইক, অনলাইন হয়রানি, নিপীড়ন, সহপাঠীদের চাপ, স্টকিং এবং পর্ন লিটারেসির মতো বিষয় থাকছে। পর্ন লিটারেসির অংশ হিসেবে শেখানো হবে কল্পনার জগৎ আর বাস্তব সম্পর্কের পার্থক্য।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাধ্যতামূলক হতে যাওয়া আরএসএইচই পাঠ্যক্রমের সঙ্গেও এই উদ্যোগ যুক্ত হবে। নতুন পাঠ্যক্রমে এআই লিটারেসি, ডিপফেইক এবং অনলাইন ক্ষতির বিষয়ে হালনাগাদ পাঠ যুক্ত থাকছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য আরও বিস্তৃত বিষয়াদি থাকবে পাঠ্যক্রমে। এ পর্যায়ে সম্মতি, সুস্থ সম্পর্ক এবং নিজেদের প্রাইভেট ছবি শেয়ার করার ঝুঁকি নিয়ে তাদের সচেতন করতে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে একটি পাইলট প্রকল্প চালাবে সরকার।
এই নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নারী ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস বলেন, “একটি কৌশল কাগজে লেখা কিছু শব্দ মাত্র। আমরা জানি, শুধু শব্দ যথেষ্ট নয়। আসল বিষয় হলো বাস্তব পদক্ষেপ।”
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ডোমেস্টিক অ্যাবিউজ কমিশনার নিকোল জ্যাকবস বলেন, “আজ ঘোষিত কৌশলটি সমস্যার ব্যাপকতা এবং এর পেছনে থাকা নারী বিদ্বেষী মনোভাব মোকাবিলার প্রয়োজন সঠিকভাবেই চিহ্নিত করেছে।”
তবে, এ উদ্যোগের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। “এই লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগের পরিমাণটি একেবারেই অপর্যাপ্ত।”
তিনি আরও বলেন, “এখনো বিশেষায়িত সেবাগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থায়ন নেই, ফলে ভুক্তভোগীরা নিজেদের এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না। এই উদ্যোগগুলোতে রেফারাল বাড়বে ধরে নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেই চাপ সামলানোর মতো অবকাঠামো স্কুলগুলোতে নেই।”
গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি মনে করেন, এই লড়াইয়ের শুরুটা আসলে ছেলেদের কীভাবে বড় করা হচ্ছে, সেখান থেকে। তার ভাষায়, বিষাক্ত পৌরুষবাদ আর নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে জড়িত।
“একজন বাবা হিসেবে চাই, আমার ছেলেরা জানুক যে পুরুষত্ব মানে দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হতে পারা; আর আমার মেয়ে যেন ভীতি ছাড়াই বাঁচতে পারে।”
নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে নেওয়া এই কৌশলের তিনটি মূল স্তম্ভ থাকছে। এর মধ্যে আছে অনলাইনে অ্যান্ড্রু টেইটের মতো ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ প্রভাবকদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিশোরতরুণদের দূরে রাখা, ধর্ষণ ও যৌন অপরাধ দমনে বিশেষ দল গঠন এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় প্রায় ৫৫ কোটি পাউন্ডের তহবিল বরাদ্দ।
নারী অধিকার সংগঠন ‘এন্ড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন কোয়ালিশনে’র পরিচালক আন্দ্রেয়া সাইমনও সতর্ক করে বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য হলেও বিদ্যমান সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সেবায় সীমাবদ্ধতার কারণে এটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ থাকবে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় বড় হওয়া নতুন প্রজন্মের জন্য এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে শিক্ষা, প্রযুক্তি সচেতনতা এবং ভুক্তভোগীদের বাস্তব সহায়তা একসঙ্গে এগোতে পারার ওপর।
The post ইংল্যান্ডে স্কুলে কিশোররা শিখবে পর্ন ও বাস্তবের পার্থক্য appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments