২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজারে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

২০২৫ সালে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের প্রতি ভোক্তাদের বাড়তি আগ্রহ, সহজ কিস্তি ও অর্থায়ন সুবিধা এবং উদীয়মান বাজারে ৫জি ফোনের দ্রুত বিস্তার এ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

২০২৫ সালে স্মার্টফোন বাজারে ধীরে ধীরে প্রিমিয়াম বা উচ্চমূল্যের ডিভাইসের দিকে ঝুঁকেছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে কভিড-১৯ মহামারীর সময় কেনা পুরনো ফোন বদলে নতুন ফোন কেনার প্রবণতা বাজারকে চাঙ্গা করেছে।

কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পী জৈন বলেন, ‘শুল্কসংক্রান্ত আশঙ্কার কারণে বছরের প্রথমার্ধে অনেক নির্মাতা আগেভাগেই বেশি ফোন বাজারে সরবরাহ করে। তবে বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, শুল্কের প্রভাব আশঙ্কার তুলনায় কম ছিল। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে সরবরাহ কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়ে।’

অঞ্চলভেদে গত বছর বাজারের চিত্র একরকম ছিল না। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো বাজারগুলো তুলনামূলক দুর্বল থাকলেও জাপান, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা (এমইএ) এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কিছু বাজারের চাহিদা ভালো থাকায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) স্মার্টফোন সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে। আগের প্রান্তিকগুলোয় মজুদ বেড়ে যাওয়ায় নতুন চালান তুলনামূলক কম ছিল।

এ প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাজারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দখল করে শীর্ষে ছিল অ্যাপল, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সারা বছরের হিসাবে ২০২৫ সালে অ্যাপল ২০ শতাংশ বাজার হিস্যা দখল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশ, যা শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বরুণ মিশ্র বলেন, উদীয়মান ও মধ্যম আকারের বাজারে অ্যাপলের উপস্থিতি বাড়ায় এ সাফল্য এসেছে। আইফোন ১৭ সিরিজের শক্তিশালী বিক্রি এবং জাপান, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইফোন ১৬-এর জনপ্রিয়তা এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

১৯ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে স্যামসাং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গ্যালাক্সি এ সিরিজের মাঝারি দামের ফোন এবং প্রিমিয়াম সেগমেন্টে গ্যালাক্সি ফোল্ড৭ ও এস২৫ সিরিজ ভালো সাড়া পেয়েছে। যদিও লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপে চাপের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি, তবে জাপান ও মূল বাজারগুলোয় ভালো বিক্র নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।

শাওমি ১৩ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকায় শক্তিশালী চাহিদা তাদের স্থিতিশীল অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

ভিভো চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে, মূলত ভারতের অফলাইন বাজারে শক্ত অবস্থান ও প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদার কারণে। অন্যদিকে চীনে তীব্র প্রতিযোগিতা ও দুর্বল চাহিদার কারণে অপোর বিক্রি কমেছে। তবে অপো ও রিয়েলমির যৌথ বাজার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশে। শীর্ষ পাঁচের বাইরে নাথিং ও গুগলের মতো ব্র্যান্ডগুলোও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

কাউন্টারপয়েন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে স্মার্টফোন বাজার কিছুটা চাপে পড়তে পারে। মেমোরি চিপের ঘাটতি ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে দাম বাড়তে পারে, যা সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে অ্যাপল ও স্যামসাং তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

The post ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজারে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments