মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ করেছে, আন্দোলনরত হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা অনুমোদিত শোরুম খোলায় বাধা দিচ্ছে। এই শোরুমগুলো শুধুমাত্র বিদেশি ব্র্যান্ডের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন বিক্রি করে। সরকারী ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্রোগ্রামের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উৎপাদকরা আরও অভিযোগ করেন, শোরুম খুলতে চেষ্টা করায় দোকানের কর্মীদেরও উপরও হামলা চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। শাওমি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, এই পরিস্থিতির কারণে দেশে তাদেরই প্রায় ১০০টি শোরুম কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) সতর্ক করেছে যে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
চেম্বার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোন রিটেইল শোরুম জোরপূর্বক বন্ধ করা হয়েছে, এবং গোষ্ঠীভিত্তিক ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ফলে স্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতারা গুরুতর আর্থিক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, এবং স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানাগুলো এখন বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে।’
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজন খাতে চীন একটি বড় বিদেশি বিনিয়োগের উৎস। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (এফআইসিসিআই) এই ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শাওমির শোরুম বন্ধ
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জানান, আন্দোলন শুরুর পর থেকে শোরুমগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “যমুনা ফিউচার পার্কে শোরুম খোলার চেষ্টা করা হলে সেগুলো জোর করে বন্ধ রাখা হয় এবং কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যমুনা ফিউচার পার্কের ১২টি শোরুম মাত্র দুই দিন এবং বসুন্ধরা সিটির শোরুমগুলো মাত্র একদিন খোলা রাখা সম্ভব হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রায় ১০০টি শোরুম বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কা
বিসিসিসিআই-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮টি মোবাইল উৎপাদন কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত চারটিতে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে এবং মোট বিনিয়োগের পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বিসিসিসিআই সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই সহিংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং একটি সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানাই।”
The post এনইআইআর আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে শোরুম খুলতে না পারার অভিযোগ মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীদের appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments