রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে দোকানপাট বন্ধে অবৈধ ব্যবসায়ীদের চাপ, আইসিটি উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানোর দোহাই দিয়ে আসলে অবৈধ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নকরণ পদ্ধতি ‘এনইআইআর’ (NEIR) বন্ধের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। বছরের প্রথম দিন থেকেই এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হওয়ায় চোরাই ও অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে রাজধানীর বড় বড় শপিং মলগুলোতে বৈধ ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ রাখতে জোরপূর্বক চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল ও যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ও বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে অবৈধ ফোন ব্যবসায়ী সমিতির কর্মীরা। ভ্যাট কমানোর আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা এখন সরাসরি আইসিটি উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়ব-এর পদত্যাগ এবং এনইআইআর ব্যবস্থা বাতিলের দাবি তুলছে।

সুযোগ দিয়েও আন্দোলন কেন? সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৬ ডিসেম্বর থেকেই এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে অবৈধ ব্যবসায়ীদের স্টক কমানোর সুযোগ দিতে এবং তাদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে বিটিআরসি সময়সীমা বাড়িয়ে ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হতেই সিন্ডিকেটটি আবার নতুন করে আন্দোলনে নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর দাবিটি এখানে কেবল একটি ‘আইওয়াশ’; তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো এনইআইআর পদ্ধতি বাতিল করা যাতে চোরাচালানকৃত ফোনের ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলে।

জোরপূর্বক দোকান বন্ধ ও হুমকি: ফেসবুকের মাধ্যমে অবৈধ ফোন ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে একটি বিতর্কিত বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি দোকান খোলা রাখে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে সমিতি তার দায়িত্ব নেবে না।’ এমন ঘোষণাকে পরোক্ষ হুমকি হিসেবে দেখছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। বসুন্ধরা শপিং মলের একজন বৈধ বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে ট্যাক্স দিয়ে ফোন বিক্রি করি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের অবৈধ ব্যবসা বাঁচাতে আমাদের দোকান খুলতে বাধা দিচ্ছে। তারা প্রেশার ক্রিয়েট করে মার্কেট অচল করার চেষ্টা করছে।”

দেশীয় শিল্প ধ্বংসের পায়তারা: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৭টি কারখানায় বিশ্বমানের স্মার্টফোন উৎপাদিত হচ্ছে। এনইআইআর চালু হলে দেশের বাজারে অবৈধ হ্যান্ডসেটের প্রবেশ বন্ধ হবে এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষা পাবে। কিন্তু এই মাফিয়া চক্রটি বিদেশের কারখানা থেকে অবৈধ পথে ফোন এনে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে। এখন সিস্টেমটি চালু হওয়ায় তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগ ও বিটিআরসি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকার বলছে, গ্রাহকদের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অপরাধ রুখতে এনইআইআর-এর বিকল্প নেই। ১ জানুয়ারি থেকেই অবৈধ ও ক্লোন আইএমইআই (IMEI) সম্পন্ন ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাজধানীর মোবাইল মার্কেটগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা।

The post রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে দোকানপাট বন্ধে অবৈধ ব্যবসায়ীদের চাপ, আইসিটি উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments