ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরো কঠোর করতে নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি চালু করতে যাচ্ছে টিকটক। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর বিধিনিষেধের আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার পর প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো ইউরোপজুড়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের পাশাপাশি ইউটিউবের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও শিশুদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার চাপ বাড়ছে।
গত এক বছর ধরে ইউরোপে পরীক্ষামূলকভাবে টিকটকের নতুন ব্যবস্থা চালু ছিল। এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল তথ্য, পোস্ট করা ভিডিও এবং প্ল্যাটফর্মে তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমান করতে পারে কোনো অ্যাকাউন্টটি ১৩ বছরের কম বয়সীর কিনা। এতে ব্যবহারকারীদের জন্মতারিখ, তারা কি ধরনের ভিডিও দেয় এবং কিভাবে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, সেটিও নজরে রাখা হয়।
টিকটক জানিয়েছে, সিস্টেম যদি কোনো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহজনক মনে করে, তখনই তা মুছে ফেলা হবে না। বিশেষজ্ঞ মডারেটররা বিষয়টি আবার যাচাই করবেন। এরপর প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেয়া হবে।
ভুল করে কোনো অ্যাকাউন্ট ডিলিট হয়ে গেলে ব্যবহারকারী আপিল করতে পারবেন। তখন বয়স প্রমাণের জন্য মুখাবয়বভিত্তিক বয়স নির্ধারণ প্রযুক্তি, ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদন কিংবা সরকারি পরিচয়পত্র দেখানোর সুযোগ দেয়া হবে। পরীক্ষামূলক সময়েই এ ব্যবস্থায় হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
টিকটক দাবি করেছে, তাদের এ সিস্টেম ডেটা সুরক্ষা ও গোপনীয়তা আইন মেনেই কাজ করে। প্রযুক্তিটি কেবল অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হবে। এছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করা হবে না।
তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় টিকটক আরো কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সরাসরি বার্তা পাঠানোর সুবিধা বন্ধ রাখা। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য দৈনিক ৬০ মিনিটের স্ক্রিন-টাইম সীমাবদ্ধতা। একই সঙ্গে রাতে ঘুমের সময় কোনো নোটিফিকেশন না পাঠানোর মতো ফিচারও রাখা হয়েছে। মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়সসীমা নির্ধারণের চাপ বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও শিশুদের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একই ধরনের বিধিনিষেধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ডেনমার্কও বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
The post ইউরোপে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট শনাক্তে কঠোর হচ্ছে টিকটক appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments