ভিওআইপি ব্যবসা থেকে স্বর্ণের চোরাচালানে জড়িত হয় আরিফ

চোরাচালান সিন্ডিকেটে আছে আরিফ নামে একজন। সাতকানিয়া উপজেলা এলাকার বাসিন্দা এই ব্যক্তির আমিন স্টোর নামে রিয়াজ উদ্দিন বাজার এলাকায় একটি পারিবারিক ব্যবসা ছিল। তবে এই ব্যবসায় মন বসতো না আরিফের। পড়ালেখা করার সময় জড়িয়ে পড়েন অবৈধ ভিআইপি ব্যবসায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মসজিদে ইমামের কাজ থেকে ৫০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য তিন কোটি ২৫ লাখ টাকা। ইমামের ল্যাপটপে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করা হয়েছিল। ওই সময় কাস্টম কতৃপক্ষ ইমামকে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আরও পড়ুন: আরিফুর রহমানের ছত্রছায়ায় চোরাই মোবাইলের ‘স্বর্গরাজ্য’ রিয়াজউদ্দিন বাজার ও তমাকুণ্ড লাইন

একপর্যায়ে ইমামের মুখে আরিফের নাম উঠে আসে। এরপর ঢাকা থেকে প্রশাসনের বিশেষ একটি টিম এসে আরিফকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এরপর আরিফকে তিনদিনের রিমান্ডে আনা হলে জব্দ হওয়া মালামাল নিজের বলে স্বীকার করেন তিনি। এই মামলায় ছয় মাস জেল খেটে মুক্ত হয় আরিফ। এরপর থেকে আরিফের স্বর্ণের ব্যবসার কথা সবাই জেনে যায়। রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় তাকে সবাই সোনা ব্যবসায়ী হিসেবে চেনে।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে আরিফের এক লোক চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় পুলিশের হাতে পুনরায় ১০টি স্বর্ণের বারসহ আটক হয়। পরে ১১ লাখ টাকার দফারফায় তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়। ২০২১ সালের মার্চ মাসে চানভির ফরহাদ নামে আরিফের এক লোক বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক হয়। বাংলাদেশি টাকার হিসেবে যার পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। পরে এই চানভির ফরহাদ ছয় মাস জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়।

আরও পড়ুন:  ২০২১ সালে এনইআইআর ‘ভালো’, এখন ‘খারাপ’? আ.লীগ পন্থী নেতার ভোল পাল্টানোর রহস্য

সবশেষ ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি আরিফের দুই লোক মফিজ ও সাজ্জাদ দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট বিজি-১৪৮ এ চট্টগ্রামে আসে। একই বিমানে ডোমেস্টিক টিকেট কেটে মিজান, আরিফ এবং আরিফের ভাই আনোয়ার ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানটিতে উঠে। এরপর তারা আন্তর্জাতিক যাত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণ নিয়ে নেয়। বিমান থেকে নামার পর মিজান ও আনোয়ার কাস্টমস কর্মকর্তাদের হাতে দুটি স্বর্ণের বার ও ছয়টি আইফোনসহ আটক হয়। যার বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকা। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মফিজের কাছ থেকে স্বর্ণগুলো নেওয়ার কথা স্বীকার করে।

এ সময় আরিফ কৌশলে সটকে পড়ে। তাদের মোবাইল ভেতর থেকে স্বর্ণের বার দুটি জব্দ করে কাস্টমস। এরপর দুজনকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং পরবর্তীতে এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি না করার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া আরিফের বর্তমানে শহরে-গ্রামে একাধিক বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় যাকে কন্ডিশন আরিফ নামে সবাই চেনেন। সুত্র: একুশে পত্রিকা

The post ভিওআইপি ব্যবসা থেকে স্বর্ণের চোরাচালানে জড়িত হয় আরিফ appeared first on Techzoom.TV.

Post a Comment

0 Comments