দেশের মোবাইল ফোনের বাজার যখন ‘আনঅফিসিয়াল’ বা ‘গ্রে’ মার্কেটের দখলে, তখন কম দামে ফোন কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অগণিত গ্রাহক। ‘নতুনের দামে পুরোনো ফোন’ (রিফারবিশড) পাওয়া, ভুয়া ওয়ারেন্টি এবং নিম্নমানের অ্যাকসেসরিজ পাওয়ার অভিযোগ এখন অহরহ। এর মধ্যেই সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোনের আকর্ষণীয় মূল্যছাড় গ্রাহকের জন্য ‘লাভের’ চেয়ে ‘ক্ষতির’ কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে শাওমির (Xiaomi) মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ‘অফিসিয়াল’ ও ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোনের পার্থক্য জানা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোনের সাময়িক কম মূল্য হয়তো আকর্ষণীয়, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রতারণা, হয়রানি এবং সর্বোপরি ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি।
কেন শাওমির অফিসিয়াল ফোন কিনবেন?
এখানে ৫টি প্রধান কারণ তুলে ধরা হলো, যা একজন গ্রাহককে ‘গ্রে’ মার্কেটের প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত রাখবে:
১. এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম: ফোন বন্ধের ঝুঁকি থেকে শতভাগ মুক্তি অফিসিয়াল ফোন কেনার এটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় এবং জরুরি কারণ। সরকার শুল্ক ফাঁকি, ডলার পাচার ও মোবাইল ফোন চুরি ঠেকাতে এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালু করছে। এই সিস্টেম অবৈধভাবে আমদানি করা বা ক্লোন করা আইএমইআই (IMEI) নম্বরের ‘আনঅফিসিয়াল’ হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন বা ব্লক করে দেবে।
শাওমির প্রতিটি অফিসিয়াল ফোন বিটিআরসি (BTRC)-এর কাছে নিবন্ধিত এবং এর আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি সরাসরি এনইআইআর (NEIR) ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে এই ফোন বন্ধ হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। গ্রাহকের বিনিয়োগ থাকে শতভাগ সুরক্ষিত।
২. ‘রিফারবিশড’ বা ‘ক্লোন’ ফোনের প্রতারণা থেকে মুক্তি ‘গ্রে’ মার্কেটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো ‘নতুনের দামে পুরোনো ফোন’ বিক্রি করা। ‘সুমাস টেক’ বা ‘টেক অ্যান্ড টক বিডি’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও গ্রাহকদের ‘রিফারবিশড’ ফোন গছিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
‘আনঅফিসিয়াল’ ফোনগুলো প্রায়শই ব্যবহৃত, পুরোনো, বা ত্রুটিপূর্ণ ফোনকে নতুন করে প্যাকেজিং করে “ইন্ট্যাক্ট বক্স” বা “গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট” বলে বিক্রি করা হয়। অফিসিয়াল ফোন কেনার অর্থ হলো, গ্রাহক শতভাগ নিশ্চিত যে ফোনটি সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে সিলড (Sealed) অবস্থায় এসেছে। এটি সম্পূর্ণ নতুন, অরিজিনাল এবং অব্যবহৃত।
৩. জেনুইন ‘ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি’ ও বিক্রয়োত্তর সেবা ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোন সাধারণত ‘শপ ওয়ারেন্টি’ বা ‘সার্ভিস ওয়ারেন্টি’র নামে বিক্রি হয়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি প্রতারণা। গ্রাহকরা ফোন মেরামত করতে গেলে দোকানগুলো টালবাহানা করে, কালক্ষেপণ করে, অথবা গ্রাহকের কাছ থেকেই মেরামতের খরচ দাবি করে।
শাওমির অফিসিয়াল ফোনে দেশব্যাপী বিস্তৃত অথরাইজড সার্ভিস সেন্টারে ১ বছরের (বা ততোধিক) ম্যানুফ্যাকচারার ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। ফোনের যে কোনো সমস্যায় গ্রাহক সরাসরি শাওমির পেশাদার সেবা পান এবং জেনুইন পার্টস (Genuine Parts) পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
৪. সঠিক সফটওয়্যার আপডেট ও নিরাপত্তা ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোনগুলো অনেক সময় নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য লক করা থাকে, যা বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য আনলক করতে গিয়ে কাস্টম রম (Custom ROM) ইনস্টল করা হয়। এতে ফোনে ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার বা অপ্রয়োজনীয় ‘ব্লোটওয়্যার’ থাকতে পারে এবং ফোনটি কখনোই অফিসিয়াল সফটওয়্যার আপডেট (OTA Update) পায় না, যা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।
শাওমির অফিসিয়াল ফোনগুলো সরাসরি বাংলাদেশ অঞ্চলের জন্য তৈরি। এতে সঠিক সফটওয়্যার দেওয়া থাকে, কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে না এবং গ্রাহকরা সময়মতো অ্যান্ড্রয়েড (Android) বা হাইপারওএস (HyperOS)-এর সকল আপডেট ও সিকিউরিটি প্যাচ পান।
৫. বৈধতা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা ‘গ্রে’ মার্কেট সিন্ডিকেটগুলো শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে রাষ্ট্রকে বঞ্চিত করছে এবং অবৈধ ডলার পাচারের (হুণ্ডি) মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একজন গ্রাহক যখন ভ্যাট-ট্যাক্স সহ একটি অফিসিয়াল ফোন কেনেন, তখন তিনি শুধু একটি বৈধ পণ্যই কিনছেন না, বরং দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন।
The post কেন শাওমির অফিসিয়াল ফোন কিনবেন? appeared first on Techzoom.TV.

0 Comments